রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

প্রেস রিপোর্ট –

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাসিক সভা আজ রবিবার (১৯ আগস্ট) সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। পরিষদের জন সংযোগ কর্মকর্তা অরুনেন্দু ত্রিপুরা -এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য হাজী মুছা মাতব্বর, সদস্য অংসুইপ্রু চৌধুরী, সদস্য থোয়াইচিং মং, সদস্য ত্রিদীব কান্তি দাশ, সদস্য সবির কুমার চাকমা, সদস্য মো: জানে আলম, সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়া, সিভিল সার্জন ডা. শহীদ তালুকদার, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উত্তম খীসা, অতিরিক্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা’সহ হস্তান্তরিত বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেছেন, এ জেলার সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে যাতে কোন ধরনের কমতি না হয় সেদিকে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আন্তরিকতায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও যোগাযোগ’সহ বিভিন্ন স্তরে উন্নয়ন হচ্ছে। সরকারের এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, সরকার আমাদের নিয়োগ দিয়েছেন জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য। তাই পরিষদের হস্তান্তরিত বিভাগের সকল কর্মকর্তাদের সততার সাথে জনকল্যাণে স্ব স্ব দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।

শিক্ষার মান উন্নয়নের বিষয়ে প্রত্যেক উপজেলায় শিক্ষক এবং এসএমসি কমিটির সাথে মতবিনিময় সভা করা হবে বলে জানান পরিষদ চেয়ারম্যান। তিনি জনগণের কল্যাণে পরিষদের সকল কার্যক্রমে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের সিভিল সার্জন ডা. শহীদ তালুকদার জানান, জেনারেল হাসপাতালের পরিত্যক্ত মহিলা ওয়ার্ডটি প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শেষে আগামীকাল থেকে পুনরায় চালু করা হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ১১হাজার লিফলেট বিতরণ ও বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যানার টাঙ্গানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, গত মাসে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে তবে গত মাসের তুলনায় চলতি মাসে রোগীর সংখ্যা কম। ধারণা করা হচ্ছে রোগের প্রকোপ অনেকাংশে কমে এসেছে ।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা জানান, আউশ মৌসুমের ফসল হয়েছে তবে ধান এখনো পরিপক্ক হয়নি। এছাড়া ধানে কোন ধরনের পোকা মাকড়ও আসেনি। অন্যদিকে বাগানগুলোতে পরিচর্যা ও উৎপাদন কার্যক্রম চলছে।

প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরী বলেন, চেলাছড়া ও আটারকছড়া আবাসিক বিদ্যালয় পুনরায় চালু করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। এখনো কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। এছাড়া জেলার ৮০টি বিদ্যালয় জাতীয়করণের আওতায় এখনো আসেনি। এগুলো জাতীয়করণ করা জরুরী।

মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উত্তম খীসা বলেন, বিলাইছড়ি মডেল ও কাউখালী পোয়া পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়েছে এবং কাচালং ও নানিয়ারচর উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হবে। এছাড়া দপ্তর হতে বিদ্যালয় পরিদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মনোরঞ্জন ধর জানান, আসন্ন কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে জেলার ১৮টি পশুর হাটে ১৮টি মেডিকেল টিম নিয়োজিত রয়েছে। কোন পশু অসুস্থ হলে মেডিকেল টিম চিকিৎসা প্রদান করবে। এছাড়া কসাইদের পশু জবাইয়ের পর চামড়া সংরক্ষণের উপর দপ্তর হতে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে চামড়া সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতার উপর বেতারে ১৮ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত বার্তা প্রচার করা হবে।

সরকারি হাঁস মুরগি খামারের কর্মকর্তা রতন কুমার দে জানান, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে দেশের ৩৫টি সরকারি হাঁস মুরগী খামারের মধ্যে রাঙ্গামাটি জেলা জাতীয়ভাবে ১ম স্থান অধিকার করেছে। অন্যদিকে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ১ম ব্যাচের মুরগীর বাচ্চা সবগুলো বিক্রি হয়েছে। আগামী মাসে ২য় ব্যাচের বাচ্চা আনা হবে এবং চাহিদা অনুযায়ী বিক্রয় করা হবে।

হর্টিকালচার সেন্টার বালুখালী, বনরূপা, লংগদু, নান্যাচর, ও আসামবস্তী উদ্দ্যান তত্ববিদরা জানান, বর্তমানে নার্সারিতে টার্গেট অনুযায়ী চারাকলম উৎপাদন ও বিক্রয় কার্যক্রম চলছে।

সভায় অন্যান্য হস্তান্তরিত বিভাগের কর্মকর্তাগণ তাদের বিভাগের স্ব স্ব কার্যক্রম উপস্থাপন করেন।

অরুনেন্দু ত্রিপুরা
জন সংযোগ কর্মকর্তা
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ
ছবি এবং সংবাদ : লিটন শীল।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment