মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে আলোচনা সভা

১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস উপলক্ষে খাগড়াছড়ি জেলা সদরে আলোচনা সভা করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।

সকল জাতিসত্তা সমূহের ন্যায্য কোটা বাতিলের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রূখে দাাঁড়াও! পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকার রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ষড়যন্ত্র ও জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতিতে ছাত্র সমাজের করণীয় শীর্ষক এক আলোচনা সভায় আজ রবিবার (১৬ সেপ্টম্বর ২০১৮) সকাল ১১ টায় পিসিপি জেলা সদস্য শান্ত চাকমার সঞ্চলানায় ও পিসিপি জেলা সাধারণ সম্পাদক সমর চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রূপেশ চাকমা প্রমুখ।

উল্লেখ্য ১৯৬২ সালে শরিফ শিক্ষা কমিশনের গণ বিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে ওয়াজিহউল্লাসহ অনেকে শহীদ হন। তার পর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরকে শিক্ষার অধিকারের মহান শিক্ষা দিবস হিসাবে পালন করে আসছে এই দেশের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক অমর ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার পর থেকে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের শিক্ষা সংক্রান্ত ৫ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সরকার এই দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও পুরোপুরি বাস্তাবায়ন করেনি। বর্তমান সরকারের আমলে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও মনিপুরী ভাষায় প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করলেও সকল সংখ্যালঘু জাতির নিজ নিজ মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার অধিকার এখানো নিশ্চিত হয়নি।
তারা আরো অভিযোগ করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটার ও প্রশাসনসহ সকল ক্ষেত্রে সরকার দলীয়করণ করে চলেছে। সাধারণ ছাত্র ছাত্রীরা যৌক্তিকভাবে কোটা সংস্কার আন্দোলন করছে। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের চাপের মুখে সরকার কোটা বাতিলের নামে দেশের সংখ্যালঘু জাতিসমূহের ন্যায্য কোটার দাবি উপক্ষো করে কোটা বতিলের ষড়যন্ত্র করছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দেশের সংখ্যালঘু জাতিসমূহের এলাকায় শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে পশ্চাপদ করে রেখে, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তা চাপিয়ে দিয়ে, জাতীয় ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালিয়ে বৃহত্তর বাঙালি জাতির মূলধারার সাথে সংখ্যালঘু জাতিসমূহের মিলাতে না পারাটাই স্বাভাবিক। পাহাড়েও সমতলের সকল জাতিসত্তার উচ্চ শিক্ষা ও চাকুরির ক্ষেত্রে কোটা ভিত্তিক বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে সরকার ষড়যন্ত্র করছে । এরই মধ্যে দিয়ে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় বৈষম্য নীতি ও সাম্প্রদায়িক রূপ উন্মোচিত হয়েছে।

পাহাড়ি জনগণকে অধিকারহীন করে রাখতে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাকিস্তানিদের মতো সেনাশাসন জারী রাখতে চায় এই দেশের শাসক গোষ্ঠী। এছাড়া শাসক গোষ্ঠী ভাগ করো শাসন করো এই নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাহাড়ে সংগঠনগুলোর ঐক্য প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করে সংখ্যালঘু জাতিসমূহে ধ্বংস করতে চায়।

আলোচনা সভায় বক্তারা আরো বলেন, সেনা-প্রশাসনের মদদে সংস্কার-নব্য মুখোশ বাহিনীর সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র অবস্থায় গিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা শহর স্বনির্ভর বাজারে হামলা চালিয়ে পিসিপি নেতা তপন, এল্টন ও যুব ফোরামের নেতা পলাশ চাকমাসহ পৃথক দুইটি ঘটনায় ৭জনকে গুলি করে হত্যা করেছে। হত্যাকান্ডের ঘটনা এক মাসের কাছাকাছি হলেও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুলিশ প্রশাসন তথা সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

আলোচনা সভা থেকে সেনা-প্রশাসনের মদদে নিরাপত্তা বেষ্টনিতে স্বনির্ভর ও পেরাছড়া হত্যাকান্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

জাতীয় ক্রান্তি লগ্নে ছাত্র সমাজ বসে থাকেনি। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে, ১৯৬৯ গণ অভ্যুত্থানে, ১৯৭১ সালের মুক্তি যুদ্ধে ও আশির দশকে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারকে উৎখাত করতে ছাত্র সমাজকে আপামর জনগণের সাথে রাজপথে নামতে হয়েছে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা-শাসক গোষ্ঠীর দমনপীড়ন ও জাতীয় দালাল ও জুম্ম রাজাকারদের প্রতিহত করতে ছাত্র সমাজকে আন্দোলন সংগ্রামে ঝাপিয়ে পরতে হবে।

বক্তারা আলোচনা সভা থেকে, নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন জোরদার করতে ছাত্র সমাজের প্রতি আহ্বান জানান এবং অবিলম্বে সকল জাতিসত্তার জন্য ন্যায্য কোটা বহালের মাধ্যমে পাাহাড়িদের জন্য বিশেষ কোটা ব্যবস্থার দাবি বাস্তবায়ন, ছাত্র নেতা তপন-এল্টন, যুব নেতা পলাশ চাকমাসহ ৭ জন হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে ও সন্ত্রাসীদের মদদদাতা সেনা-প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বার্তা প্রেরক –

থুইহ্লাপু মারমা
দপ্তর সম্পাদক
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)
খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment