রামগড়ে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের ৩য় কাউন্সিল সম্পন্ন

৫ অক্টোবর ২০১৮
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

“এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার সময় তার” ভূমি বেদখল-নারী সম্ভ্রম রক্ষা ও জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে যুব সমাজ জাগ্রত হোন! পূর্ণ স্বায়ত্ত শাসন পতাকাকে উর্ধ্বে তুলে ধরুন’ এই স্লোগানে খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রামে যুব সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের রামগড় উপজেলা শাখার ৩য় কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে।

আজ শুক্রবার (৫ অক্টোবর ২০১৮) সকাল ১০ টায় রামগড় উপজেলা সদরে এই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।

কাউন্সিল অধিবেশন শুরুতে খাগড়াছড়ি স্বনির্ভর বাজারে সেনা-প্রশাসনের মদদে সংস্কারপন্থী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত শহীদ তপন,এলটন,পলাশ চাকমাসহ নিপীড়িত জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আত্মবলি দানকারী বীর শহীদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট পালন করা হয়।

কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক সুরেশ চাকমা’র সভাপতিত্বে সদস্য সচিব প্রশান্ত ত্রিপুরার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিত্রফ)-এর রামগড় ইউনিটের সমন্বয়ক অপু ত্রিপুরা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রুপেশ চাকমা, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) রামগড় উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নরেশ ত্রিপুরা প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য জয়ন্ত ত্রিপুরা।

কাউন্সিলে বক্তারা বলেন, রামগড়, মানিকছড়ি, মাটিরাঙ্গায় সেটেলার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিজিবি-সেনা-প্রশাসন নানান ভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাদের মদদে পাহাড়িদের ভূমি বেদখলের পায়ঁতারা চালাচ্ছে। রামগড় গরুকাটা এলাকায় জনগণের সহযোগিতায় নির্মাণাধীন প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নাঙ্গেল আদামে সুমিতা চাকমার বাড়ীতে বিজিবি সদস্যদের ভাঙচুর-লুটপাতের ঘটনা তারই দৃষ্টান্ত।

তারা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা-প্রশাসন ক্ষুদ্র জাতিসত্তা সমূহের অস্তিত্ব ধ্বংস করতে পাহাড়ে প্রতিক্রিয়াশীল অংশ সংস্কার-নব্য মুখোশ সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে হত্যা, গুম, অপহরণ ঘটাচ্ছে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কতিপয় সেনা-প্রশাসনের কর্মকতাদের স্বার্থ হাসিল করছে। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে নারীরা কোথাও নিরাপদ নয়। পথে-ঘাটে, স্কুল-কলেজ, ক্ষেতে-খামারে প্রতিনিয়ত নারী ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, অপহরণ ঘটনা অহরহ ঘটে চলেছে। এসব ঘটনায় কোন সুবিচার না হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। পাহাড় ও সমতলের জনগণ নারী নেত্রী কল্পনা চাকমার অপহরণ, সবিতা, বারতী, তুমাচিং, সুজাতা চাকমা, ৫ম শ্রেণী ছাত্রী কৃত্তিকা ত্রিপুরা ও সমতলে সোহাগী জাহান তনুর ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আজও কোন সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হয়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফলে দেশে আজ অপরাধীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

বক্তারা, ভূমি-বেদখল, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ও জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার্থে যুব সমাজকে আর্দশিক সংগঠনের পতাকাতলে এসে পাহাড়ে নিপীড়িত জনগণের মুক্তির সনদ পূর্ণ স্বায়ত্ত শাসন অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জোরদার করার আহ্বান জানান।

কাউন্সিল অধিবেশন শেষে উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতি ক্রমে সুরেশ চাকমা সভাপতি, প্রশান্ত ত্রিপুরাকে সাধারণ সম্পাদক ও জয়ন্ত ত্রিপুরাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠিত হয়।

নতুন কমিটি শপথ বাক্য পাঠ করান গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রুপেশ চাকমা।

বার্তা প্রেরক,

অভি ত্রিপুরা
দপ্তর সম্পাদক
গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম।
রামগড় উপজেলা শাখা।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment