বাবর-পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন

অনলাইন ডেস্ক –

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা উপলক্ষে লুৎফুজ্জামান বাবরকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। ছবি: সংগৃহীত

২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন প্রাপ্ত ১৯ জনের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী। এছাড়াও ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন— মো. তাজউদ্দিন, মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, মো. মাজেদ ভার্ট, আব্দুল মালেক, মহিবুল্লাহ ওরফে অভি, মাওলানা আবু সাঈদ, আবুল কালাম আজাদ, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন মো. তামিম, মঈনুদ্দিন শেখ, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. উজ্জ্বল ওরফে রতন, মো. লুত্ফুজ্জামান বাবর, মেজর জে. রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রি. জে. (অব:) আব্দুর রহিম, মোহাম্মদ আবদুস সালাম পিন্টু ও মো. হানিফ।

যাবজ্জীবন প্রাপ্তরা হলেন— শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, আরিফ হাসান সুমন, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, আবু বকর, মো. আরিফুল ইসলাম, মুহিবুল মুক্তাকিন, আনিসুল মুরসালিন, খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল, তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জেল কায়কোবাদ, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই ও রাতুল আহমেদ বাবু।

প্রায় ১০ বছর বিচারিক কার্যক্রম শেষে আজ বুধবার দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়কে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয় পুরো রাজধানী জুড়ে। আদালত প্রাঙ্গণ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ব্যাপক পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

গ্রেনেড হামলার প্রধান টার্গেট ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। শুরু থেকেই নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ভিন্ন খাতে নিতে নানা চেষ্টা করা হয়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। বেরিয়ে আসে অনেক অজানা তথ্য। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় আনা দুই মামলায় আসামির সংখ্যা ৪৯ জন। এদের মধ্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জঙ্গি মাওলানা তাজউদ্দিন আহমেদসহ ১৮ জন পলাতক রয়েছেন। কারাগারে রয়েছেন, বিএনপি নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ৩১ জন।

বাবরের অভিশাপ:

মামলায় ফাঁসির দণ্ডাদেশ পেয়ে আজ বুধবার আদালতে বিচার সংশ্লিষ্টদের অভিশাপ দিয়েছেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।

তিনি বলেছেন, যারা এই দণ্ড দিয়েছেন তাদের ওপর ‘গজব পড়বে’। নিজেকে নির্দোষও দাবি করেন বাবর। তিনি বলেন, ‘আমি তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার কথা বলিনি বলে এই সাজা দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় পুরোটা সময় বাবরসহ সব আসামি ছিলেন নীরব। আর শেষ পর্যায়ে বিড়বিড় করে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। সাদা রঙের একটি ফতোয়া এবং চশমা পরা বাবর তখন অন্য আসামিদের সঙ্গে ছিলেন কাঠগড়ায়। ভেতরে পুলিশ সব আসামিকে ঘেরাও করে রাখে।

রায় ঘোষণার আগে আজ সকালে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে করে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরকে আনা হয় ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এ। তবে রায় ঘোষণার পর গাড়িতে করে কারাগারে যাওয়ার সময় সবার উদ্দেশ্যে হাতও নাড়ান বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তুমুল সমালোচিত স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর।

এই মামলা নিয়ে বাবর ফাঁসির দণ্ড পেয়েছেন দ্বিতীয়বার। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় ২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারিও ফাঁসির দণ্ড পান তিনি। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ আ স ম কিবরিয়া হত্যা মামলায়ও তার বিচার চলছে। এখানেও দোষী প্রমাণ হলে সর্বোচ্চ সাজা হতে পারে তার।

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলাতেও সাজা পেয়ে বিচারককে অভিশাপ দিয়েছিলেন বাবর। কাঠগড়ায় সেদিন তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘এই বিচারে আমি ন্যায় বিচার পাইনি। এই বিচারকের পরও বিচারক আছেন। তিনি আল্লাহ। আখেরাতে আমি সেই বিচারকের কাছ থেকে ন্যায় বিচার পাব।’

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment