রাজবন বিহারে কঠিন চীবর দান উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

প্রেস রিপোর্ট –

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বাংলাদেশের অন্যতম বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাঙ্গামাটির রাজবন বিহারে আগামী ১৫ ও ১৬ নভেম্বর ২০১৮ ৪৫তম কঠিন চীবর দান উদযাপন উপলক্ষে রবিবার (২১ অক্টোবর) সকালে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সভাকক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। এ সময় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ছাদেক আহমদ, পরিষদের সদস্য জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, পরিষদের হিসাব ও নিরীক্ষা কর্মকর্তা মো: খোরশেদুল আলম চৌধুরী, কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহেদুল হক রনি, স্বাস্থ্য বিভাগের ডা: বিনোদ শেখর চাকমা, পৌর কাউন্সিলর কালায়ন চাকমা, জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার মো: রহুল কুদ্দুস, রাঙ্গামাটির রাজ বনবিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পদক অমিয় খীসা, বনবিহার পরিচালনা কমিটির সদস্য রনেন্দ্র চাকমা রিন্টু’সহ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, বিদ্যুৎ বিতরণ, গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিগত বছরের কার্যবিবরণী পর্যালোচনা এবং উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পর কঠিন চীবর দানোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় রাজ বন বিহার পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে গৃহীত প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে সভায় উপস্থাপন করা হয়।

বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের বৃহৎ এ উৎসব কঠিন চীবর দান সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এবং আগত পূণ্যার্থীদের সুবিধার্থে আইন শৃংখলা বাহিনীকে সড়ক ও নৌ পথের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রয়োজন অনুযায়ী টহল ব্যবস্থা গ্রহণ ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে চেক করা, যানজট নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ট্রাফিক মোতায়েন, সমগ্র এলাকায় আইন শৃংখলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, স্বাস্থ্য বিভাগকে মেডিকেল টিম ও এম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা, সুষ্ঠুভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা, পানি সরবরাহের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ, সেনিটারি লেট্রিনসমূহের দ্বারা পরিবেশ দূষণ এর বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য উপস্থিত সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের প্রধানকে বিহার পরিচালনা কমিটিকে সহযোগিতা প্রদানের জন্য রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অনুরোধ জানান। বৃহৎ এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি সুস্থ ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য রাঙ্গামাটির রাজ বনবিহার পরিচালনা কমিটিকে পরিষদ হতে দুই লক্ষ ৫০ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান ও বেইন ঘরে যাওয়ার রাস্তাটি সংষ্কার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন পরিষদ চেয়ারম্যান।

অনুষ্ঠানমালায় আগামী ১৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় বেইন কর্মীদের পঞ্চশীল গ্রহণ, ৩টা ১ মিনিটে বেইন ঘর উদ্বোধন, ৩টা ১১ মিনিটে চরকায় সুতা কাটা উদ্বোধন, বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে সুতা লাগানো শুরু, সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিটে সুতা সিদ্ধ ও রং করা শুরু, ৭টা ১ মিনিটে সুতা টিয়ানো শুরু, রাত ৮টায় সুতা শুকানো শুরু, ৮টা ৩০ মিনিটে সুতা তুম ও নীল ভরা শুরু এবং রাত ১০টা ১ মিনিট থেকে ১৬ নভেম্বর শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত বেইন টানা ও বেইন বুনা হবে।

আগামী ১৬ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৬টায় বুদ্ধ পতাকা উত্তেলন, ৬টা ১মিনিট থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত চীবর সেলাই, সকাল ৬টা ১০ মিনিটে পূজনীয় ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশ, সকাল ৯টায় পরম পূজ্য বনভন্তের প্রতিচ্ছবিসহ পূজনীয় ভিক্ষুসংঘের মঞ্চে আগমন ও আসন গ্রহণ, ৯টা ১০ মিনিটে ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন, ৯টা ২০ মিনিটে পঞ্চশীল গ্রহণসহ বুদ্ধমুর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দান, ১১টায় ভিক্ষুসংঘকে পিন্ডদান, দুপুর ১২টা ৩০মিনিটে শোভাযাত্রা সহকারে কঠিন চীবর ও কল্পতরু মঞ্চে আনায়ন, বেলা ২টায় অতিথিবৃন্দের অনুষ্ঠান মঞ্চে আসন গ্রহণ, ২টা ২০ মিনিটে পূজনীয় ভিক্ষুসংঘ মঞ্চে আগমন ও আসন গ্রহণ, ২টা ২৫ মিনিটে ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন, ২টা ৩০ মিনিটে পঞ্চশীল গ্রহণ, ২টা ৫০ মিনিটে কঠিন চীবর উৎসর্গ ও দান, বিকাল ৩টায় বিশ্ব শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা, ৩টা ১০ মিনিটে বনবিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের স্বাগত বক্তব্য, ৩টা ২০ মিনিটে অতিথিবৃন্দ ও প্রধান পৃষ্টপোষক (চাকমা রাজা)’র বক্তব্য, ৩টা ৪০মিনিটে পূজনীয় ভিক্ষু সংঘের ধর্মদেশনা, বিকাল ৪টায় পরম পূজ্য শ্রাবকবুদ্ধ শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভন্তের ধর্মদেশনা (ক্যাসেট হতে) ও সন্ধ্যা ৬টায় প্রদীপ পূজা প্রজ্জলন অনুষ্ঠিত হবে।

অরুনেন্দু ত্রিপুরা
জন সংযোগ কর্মকর্তা
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ
ছবি এবং সংবাদ : লিটন শীল।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment