টানা তৃতীয়বারসহ চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হলেন শেখ হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক –

চতুর্থবারের মতো ও টানা তৃতীয়বার দেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আজ সোমবার (০৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ান।

শপথ নেওয়ার পর তার ছোট বোন শেখ রেহানা শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। আওয়ামী লীগের নতুন সরকারের সূচনায় পরস্পরের আলিঙ্গনে আবদ্ধ হন জাতির পিতার দুই কন্যা। এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাজেদা চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্র পরিচালনায় এবার শেখ হাসিনার সঙ্গে আছেন ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন উপমন্ত্রী। একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর তরুণ-প্রবীণদের সমন্বয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর পর একে একে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরাও শপথ নেন।

এর আগে (৩ জানুয়ারি) সকালেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ঐদিন আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে শেখ হাসিনাকে সংসদ নেতা হিসেবে পুনর্নির্বাচিত করা হয়।

পরে ওইদিনই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করেন শেখ হাসিনা। ওই সময় তাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রপতি।

আজ সোমবার (০৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শপথ বাক্য পাঠ করান। রীতি অনুযায়ী, প্রথমে প্রধানমন্ত্রী এবং পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীরা শপথ নেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

রাষ্ট্রপতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে ওবায়দুল কাদের, কৃষি মন্ত্রণালয়ে মো. আব্দুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসাদুজ্জামান খান, তথ্য মন্ত্রণালয় ড. হাছান মাহমুদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আনিসুল হক, অর্থ মন্ত্রণালয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ কে আব্দুল মোমেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে এম এ মান্নান, শিল্প মন্ত্রণালয়ে নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে গোলাম দস্তগীর গাজী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে জাহিদ মালেক, খাদ্য মন্ত্রণালয়ে সাধন চন্দ্র মজুমদার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে টিপু মুনশি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে নুরুজ্জামান আহমেদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে মো. শাহাব উদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, ভূমি মন্ত্রণালয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, রেলপথ মন্ত্রলণালয়ে মো. নুরুল ইসলাম সুজন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এবং ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে মোস্তাফা জব্বারকে শপথ পড়ান।

আর ১৯ জন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ে কামাল আহমেদ মজুমদার, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ইমরান আহমেদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে জাহিদ আহসান রাসেল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে নসরুল হামিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে মো. আশরাফ আলী খান খসরু, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মো. জাকির হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মো. শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে জুনাইদ আহমেদ পলক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ফরহাদ হোসেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে স্বপন ভট্টাচার্য, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জাহিদ ফারুক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে মো. মুরাদ হাসান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে শরীফ আহমেদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কে এম খালিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে ডা. মো. এনামুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে মো. মাহবুব আলী এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে শপথ পড়িয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

এছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে বেগম হাবিবুন নাহার, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এ কে এম এনামুল হক শামীম এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মহিবুল হাসান চৌধুরীকে উপমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পড়ানো হয়।

শেখ হাসিনা:

শেখ হাসিনার জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেসার পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড় তিনি।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শেখ হাসিনা। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদস্য ও রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।

১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের বঙ্গবন্ধুকে যখন সপরিবারে হত্যা করা হয়, ওই সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা হাসিনা ও রেহানা। পরের ৬ বছর লন্ডন ও দিল্লিতে তাদের নির্বাসিত জীবন কাটে।

১৯৮১ সালের ১৭মে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। পাঁচ বছরের মাথায় সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের সময়ে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ একনায়ক এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। পরে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ; আর শেখ হাসিনা হন বিরোধী দলের নেতা।

১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ২০০১ সালের নির্বাচনে সরকার গঠন করে বিএনপি-জামায়াত জোট। ওই আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ।

২০০৭ সালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নিলে আরও অনেক রাজনীতিকের মতো শেখ হাসিনাও গ্রেফতার। দুই বছরের মাথায় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ জোট। দ্বিতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা।

বিএনপি ও তাদের শরিকদের বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনেও জয় পায় আওয়ামী লীগ জোট। সব শেষ গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার করেছে আওয়ামী লীগ জোট। এর মধ্য দিয়ে চতুর্থবার ও টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হলেন শেখ হাসিনা।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment