হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের তথ্য

২০১৮ সালে দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটেছে ৮০৬টি

অনলাইন ডেস্ক –

দেশে ২০১৮ সালে ৮০৬টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৯০ জন। আহত হয়েছেন ৪৪৭ জন। একই সময়ে সাম্প্রদায়িক শক্তির দখল ও উচ্ছেদ তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৮৮টি পরিবার ও প্রতিষ্ঠান।

শুক্রবার বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ২০১৮ সালে সংঘটিত সংখ্যালঘু নির্যাতনের তথ্য প্রকাশ উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।

তিনি জানান, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শাস্তি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১০টি। এ ছাড়া সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অংশ হিসেবে ৩৯টি অপহরণ, ১৮টি নিখোঁজ, ১৪টি ধর্ষণচেষ্টা, ৩২টি ধর্ষণ, ১৬টি গণধর্ষণ, ২৬টি যৌন হয়রানি, ১৪টি প্রতিমা চুরি, ৭টি মন্দিরে চুরি বা ডাকাতি, ১৬৯টি প্রতিমা ভাংচুর, ৫৮টি মন্দিরে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ, ২১টি শ্মশান বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি দখল, ১১টি দখলের চেষ্টা, ১২২টি বসতবাড়ি ও জমিজমা দখল, ১১৫টি দেশত্যাগের হুমকি, ২৩৫টি বসতঘর বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট, ২০টি চাঁদাবাজি, ৩১টি হত্যার হুমকি এবং ২৩টি হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৮ সালে সংখ্যালঘু-আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটেছে। ২০১৬ সালে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ছিল এক হাজার ৪৭১টি, ২০১৭ সালে তা নেমে আসে এক হাজার ৪টিতে। আর গত বছর হয়েছে ৮০৬টি ঘটনা। এ তথ্য থেকে বোঝা যায় যে, ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, নিপীড়নের ধারা বন্ধ হয়নি। দেশে ধর্মীয়, জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন অব্যাহত আছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অন্যান্যবারের মতো দুঃসহ অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি ঘটেনি। তার পরও ফেনীর সোনাগাজী, ঠাকুরগাঁও সদর, রাঙ্গামাটির লংগদু, বাঘাইছড়ির কিয়দাংশ, রাজস্থলী, কাপ্তাই, কাউখালীসহ কয়েকটি স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ঘটনা ঘটেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের অন্যতম সভাপতি ঊষাতন তালুকদার ও উপদেষ্টা ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক। উপস্থিত ছিলেন কাজল দেবনাথ, সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত, বাসুদেব ধর, লায়ন জে এল ভৌমিক, মিলন কান্তি দত্ত, নির্মল রোজারিও, সঞ্জীব দ্রং, অ্যাডভোকেট পরিমল গুহ, মনিন্দ্র কুমার নাথ প্রমুখ।

এক প্রশ্নের জবাবে রানা দাশগুপ্ত বলেন, সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে দেশে সাম্প্রদায়িকতাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। বাহাত্তরের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানে ফেরা ছাড়া দেশ সাম্প্রদায়িকতামুক্ত হতে পারবে না।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment